গরিবের চিকিৎসক হত্যায় জড়িতরা ছিনতাইকারী : ডিবি – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

গরিবের চিকিৎসক হত্যায় জড়িতরা ছিনতাইকারী : ডিবি

Jakir Hossain
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০২২
গরিবের চিকিৎসক হত্যায় জড়িতরা ছিনতাইকারী : ডিবি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর মিরপুর থানাধীন শেওড়াপাড়ায় ছুরিকাঘাতে দন্ত চিকিৎসক ডা. আহমেদ মাহী বুলবুল নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার চার জনকে ছিনতাইকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি পুলিশের দাবি, পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আনন্দবাজার এলাকা থেকে শেওড়াপাড়া বাস স্ট্যান্ড যাবার পথে রিকশার গতি রোধ করে ছিনতাইকারীরা। তার ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভিকটিমের বাধায় ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে শুধু মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে পালিয়ে যায়।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার। এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মিরপুর মডেল ও পল্লবী থানা এলাকা এবং ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন কাউন্দিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো—মো. রায়হান ওরফে সোহেল আপন (২৭), রাসেল হোসেন হাওলাদার (২৫), আরিয়ান খান হৃদয় (২৩) ও সোলায়মান (২৩)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, নিহত বুলবুল আহমেদ (৩৯) পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক এবং প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার ব্যবসায়ী। তিনি গত ১৫/২০ দিন পূর্বে নোয়াখালী এলাকায় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ পান।

গত ২৭ মার্চ সকাল সোয়া ৫টার দিকে তিনি নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশ্যে মিরপুর মডেল থানাধীন পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আনন্দবাজার এলাকা হতে শেওড়াপাড়া বাস স্ট্যান্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিকশা যোগে রওয়ানা হন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পশ্চিম কাজীপাড়ার বেগম রোকেয়া সরণি নাভানা ফার্নিচার শোরুম ও আমসিকো ফার্নিচার শোরুমের সামনে পৌঁছলে গ্রেফতার চার ছিনতাইকারী রিকশার গতিরোধ করে ভিকটিমের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভিকটিম বাধা দিলে ধারালো ছোরা দিয়ে তার ডান হাঁটুর উপর আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও চিৎকারের কারণে শুধু মোবাইল ফোন ছিনিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। পরে বিহঙ্গ বাসের চালক ও হেল্পারের সহযোগিতায় ভিকটিমকে প্রথমে স্থানীয় আল-হেলাল হাসপাতাল ও পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রেফতার চার জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে হাফিজ আক্তার বলেন, গত ২৭ মার্চ ভোর ৪টায় গ্রেফতার ৪ জনসহ মোট পাঁচ জন মিরপুর পশ্চিম কাজীপাড়া এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। আসামিরা প্রত্যেকেই পেশাদার ছিনতাইকারী। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতার রায়হানকে (২৭) ডিবি মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনাল টিম গত ২৭ মার্চ একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় গ্রেফতার করে।

চিকিৎসক বুলবুলের সঙ্গে নোয়াখালী যাওয়ার কথা ছিল রং মিস্ত্রি সোহরাবের। সোহরাবকে ঘটনার দিন ভোরে বুলবুল ফোন করে ফার্মগেট যেতে বলেন। সেখান থেকে দুজন এক সঙ্গে নোয়াখালী যেতে চেয়েছিল। তার পরিবারের দাবি, চিকিৎসক বুলবুলের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে বের হলে মেট্রো রেলের ৩০৫ নম্বর পিলার, সেখান থেকে ফার্মগেটের দিকে যাওয়ার কথা।

বুলবুল আহত অবস্থায় উল্টো দিকে পশ্চিম কাজীপাড়া ২৭৮ নম্বর পিলারের কাছে পড়েছিলেন। সেখানে বুলবুল কিভাবে গেলেন? কোনও সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখেছেন কিনা?—জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, এই বিষয়টিও আমরা আমলে নিয়ে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে—তারা পেশাদার ছিনতাইকারী। আর দন্ত চিকিৎসক বুলবুল হত্যার ঘটনাটি আননোন মার্ডার কেস হিসেবে তদন্ত শুরু হয়েছে। এটা হত্যার পাশাপাশি ডাকাতি মামলা হিসেবে টার্ন করবে।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে নির্দেশদাতা বা কারও ইন্ধন ছিল কিনা? কেনই বা হত্যাকাণ্ডকে ছিনতাই বলছেন?—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, কোনও ঘটনা ঘটলে গোয়েন্দা পুলিশের কাজ ক্লু উদ্ধার করা ও কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা। যেকোনো ঘটনা ঘটলে আমরা এই কাজগুলো করি। আর এই ঘটনার প্রমাণ হলো, চারজনকে গ্রেফতার ও নিহত চিকিৎসকের মোবাইল ফোন এবং তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা তদন্তের সময়ে সব দিক বিবেচনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ছিনতাই মনে হচ্ছে বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।