চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল, ধাপে ধাপে সব শহরে – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল, ধাপে ধাপে সব শহরে

Jakir Hossain
প্রকাশিত জানুয়ারি ৪, ২০২২
চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল, ধাপে ধাপে সব শহরে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মতো চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতেও মেট্রোরেল করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের বিমানবন্দর থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেলের রুট করার কথা বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৪ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন চট্টগ্রামের পাশাপাশি সব বড় শহরেও ধাপে ধাপে মেট্রোরেল করা হবে। শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলছেন, সবকিছু ঢাকায় হবে? চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল হওয়া উচিত। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেল করো।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘মেট্রোরেল শুধু ঢাকায় নয়, চিটাগংয়ে মেট্রোরেল হওয়া উচিত। এই আইডিয়া আমরা আলোচনা করে, দেশের অন্যান্য জায়গায় যেখানে শহরে রেলস্টেশন আর বিমানবন্দর আছে… এই ধরনের জায়গায় যেখানে বড় শহর আছে এবং বিমানবন্দর আছে সেসব জায়গায় আমাদের মেট্রোরেল করা উচিত। আলোচনা এসেছে, আশা করি আগামীতে প্রকল্প আনা হবে। ’

মন্ত্রী জানান, সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সীমানা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এলে প্রধানমন্ত্রী স্যাটেলাইট সিটি বা উপশহর নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।

কৃষি কাজের জন্য নালা তৈরি বাদে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত নালা বা খালের তলদেশ সিমেন্ট-কংক্রিট দিয়ে পাকা না করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

২০২২ সালে চালু হবে ৩টি মেগা প্রকল্প
সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক ১০টি মেগা প্রকল্পের মধ্যে ২০২২ সালে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল (এমআরটি-৬) এবং কর্ণফুলী টানেল চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব মেগা প্রকল্প চালু হলে এগুলো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ব্যাপক অবদান রাখবে।

একনেক সভায় ১১ হাজার ২১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি প্রকল্প সম্পূর্ণ নতুন এবং বাকি ৭টি সংশোধিত প্রকল্প।

অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ প্রকল্প; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য লজিস্টিকস ও ফ্লিট মেইনটেন্যান্স ফ্যাসিলিটিস গড়ে তোলা (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ককে জাতীয় মহাসড়ক মানে ৪-লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের কেন্দ্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও মন্ত্রণালয়ের ‘মোবাইল গেইম অ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘আশ্রয়ণ-২ (৪র্থ সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং ‘বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মীরসরাই-১ম পর্যায়’ গ্রকল্প; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘বরগুনা জেলার অধীন পোল্ডার ৪৩/১ ও ৪৪টি পুনর্বাসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পায়রা নদীর ভাঙ্গন হতে প্রতিরক্ষা’ প্রকল্প এবং ‘কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর ভাঙ্গনরোধ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভার কার্যক্রমে অংশ নেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক; পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।