টুকরো টুকরো উৎসবের স্মৃতি জিইয়ে রাখে আনন্দ, বেঁচে থাকি ! – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

টুকরো টুকরো উৎসবের স্মৃতি জিইয়ে রাখে আনন্দ, বেঁচে থাকি !

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২১
টুকরো টুকরো উৎসবের স্মৃতি জিইয়ে রাখে আনন্দ, বেঁচে থাকি !

উৎসবের মরসুম প্রায় ফুরোল। পাশের শহরের উৎসবের আলো ম্লান হল। রেল লাইনের ধারের যে আলোটুকু আমাকে উৎসবের শরীক করেছিল, সে আলো উধাও, আবার সেই ফিকে নিয়নের দিন। আমার শহরে কার্তিক সংক্রান্তিতে দেবসেনাপতি এলেন। চলে গেলেন, নিভৃতে। আলো জ্বলল অল্পস্বল্প, নিভলও শেষে । চেনা সমে ফিরছে শহর। সব আবার নিস্তরঙ্গ।

শীতটা যেন পড়ব পড়ব করেও পড়ছে না। ছাতিমের গন্ধে এবার আর সেভাবে নেশা ধরল না। কুয়াশার চাদরে শহর ঢাকেনি যদিও, তবু স্পষ্ট চোখে কীই বা দেখতে পেলাম ! চোখ তো আলোই খুঁজল, মন উদযাপন।
আসলে জীবনটাই উদযাপনের অপেক্ষা। আমৃত্যু দু’পাশে সারি দিয়ে থাকে উৎসবের মাইল ফলক। আমরা কেউ নিয়ম করে তাকে ছুঁয়ে বসি, কেউ বা বেনিয়মে তাকে ছেড়ে ছেড়ে যাই। কত বার যে দূর থেকে উৎসব দেখেছি তার ইয়ত্তা নেই! পায়ে মায়া জড়িয়েছে, উদযাপনের আতস ছুঁয়েছে আমায়।আমি অবশ্য উৎসবের ছায়াও মাড়াইনি, কেবল জড়িয়ে থেকেছি জীবন।
সে জীবনে আছে হিমের রাতে মা- বাবার হাত ধরে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে দুষ্টু ছেলের এক ছুট্টে পালানো, বুড়ির মাথার পাকা চুল পেয়ে সব পেয়েছির হাসি বিলিয়ে দেওয়া বেগুনি ফ্রকের ছোট্টো মেয়েটা! জড়িয়ে রেখেছি উদযাপন থেকে বহু দূরে জলের ধারে একে অন্যের গা ঘেঁষে বসে থাকা ভালবাসাদের !

ক’দিন আগে এক বন্ধু বললেন, ‘এবারের বইমেলার থিম বাংলাদেশ শুনেছ নিশ্চয়ই , তোমার- আমার যে যে বই কেনার প্ল্যান ছিল সবকটাই পেয়ে যাবো’! মনে পড়ল এও তো উদযাপনেরই তোড়জোড় , ছুঁয়ে থাকা জীবনভর। গোটা পুজোটা বাড়তি কাজের চাপে একদিনও শাড়ি পরতে পারিনি, সরস্বতী পুজোয় জামদানিটা পরব ঠিক করেছি, এই তো আমার উৎসব , অপেক্ষাও বটে। বছর শেষের কেক, বছর শুরুর মাংস-ভাত, পাড়ার মাঠে পিকনিক, এক-দু’ দিনের শর্ট ট্রিপ সব কিছুর পরতে পরতে লেগে আছে উদযাপনের অপেক্ষা ।
টুকরো টুকরো এই উদযাপনই জিইয়ে রাখে আনন্দ, বেঁচে থাকি ।

ছাদে বেশ কয়েক বছরের পুরনো একটা বেলফুলের গাছ আছে, প্রতি গ্রীষ্মে ওর ফুল ফোটার জন্যে অপেক্ষা করি। বুড়ো হচ্ছে, খুব বেশি ফুল দিতে পারে না, তবু সবকটা গাছের মধ্যে ওর ফুলের গন্ধটা যেন আমি আলাদা করে চিনতে পারি। শীতের গাঁদা গাছগুলোর জন্যে সম্বৎসর আমার অপেক্ষা যাওয়ার না, হলুদে হলুদে বাগানের কোণটা যে দিন আলো হয়ে যায়, সে দিন আমার বড়দিন! দিদামার দেওয়া গন্ধরাজ যে দিন মরসুমের প্রথম ফুলটা দেয়, সে দিন আমাদের উৎসব।
আমরা বোধহয় উদযাপন ছেড়ে বাঁচতে পারি না। উৎসবই আগলে রাখে আমাদের। এক উদযাপনের ব্যাটন হাতে তুলে নেয় আরেক উৎসব। আমরা বেঁচে নিই মুহূর্তটুকু, যে যার মতো করে।

লেখক: সুকন্যা চক্রবর্তী
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট , কলকাতা ৷