বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি বন্ধ – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি বন্ধ

Jakir Hossain
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১, ২০২২
বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি বন্ধ

 

বেনাপোল প্রতিনিধি:

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ডাকা ধর্মঘটের কারণে মঙ্গলবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের মতো বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে আমদানি- রফতানি বন্ধ রয়েছে। ফলে পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। এসব ট্রাকের বেশিরভাগেই বাংলাদেশের শত ভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামালসহ পচনশীল পণ্য রয়েছে। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দর অভ্যন্তরে ও কাস্টমসের সব ধরনের কার্যক্রম সচলসহ দু’দেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব পক্ষ আলোচনায় বসলেও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর, কাস্টমস, বিএসএফ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রাক মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা তাদের নিজ নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকায় বিষয়টি সুরাহা হয়নি। মঙ্গলবার বিকোলে আবার ও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় বিএসএফ ও পেট্রাপোল ল্যান্ড পোর্ট অথোরিটির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, বনগাঁ গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন, বনগাঁ নব মালিক সমিতি, বনগাঁ মোটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সীমান্ত পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনসহ একাধিক সংগঠন সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেয়। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধে যোগ দেয় পেট্রাপোল সীমান্তে পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার শ্রমিক।

অভিযোগ উঠেছে- পেট্রাপোল সেন্ট্রাল পার্কিংয়ের (ল্যান্ড পোর্ট) নতুন ম্যানেজার কমলেশ সাইনীর খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের। সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়, করোনার আবহে এমনিতেই তাদের আয় কমে এসেছে। নতুন ম্যানেজার তাদের সঙ্গে কথা না বলে নতুন নতুন আইন তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, নতুন ল্যান্ড পোর্ট ম্যানেজারের বিরুদ্ধে পরিবহন কর্মীরা অভিযোগ উঠেছে যে, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) কাজে লাগিয়ে বন্দর ব্যবহারকারী ও কর্মীদের পোর্টের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদে এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে কর্মবিরতি শুরু করে ৮টি সংগঠনের কয়েক হাজার শ্রমিক।

পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, কোভিড-১৯ এর কারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে ২৪ ঘণ্টায় ৭০০ থেকে সাড়ে ৭৫০ পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে রফতানি হতো, করোনার কারণে এখন মাত্র সাড়ে ৩০০ ট্রাক পণ্য রফতানি হচ্ছে। এর ওপর নতুন ল্যান্ড পোর্ট ম্যানেজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনও কথা না বলে বন্দর এলাকায় প্রবেশের ওপর নতুন নতুন আইন তৈরি করে কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন ম্যানেজার বিএসএফকে কাজে লাগিয়ে পরিবহন কর্মীদের বন্দরের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না। পরিবহন কাজে জড়িত কর্মীদের আইসিপিতে প্রবেশে বিএসএফের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। যা এর আগে কখনও দেখেনি। কয়েক হাজার শ্রমিক ও সীমান্তের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। এসব হয়রানির প্রতিবাদে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হলেও ভারতের পেট্রাপোল স্থল বন্দরের ম্যানেজার তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। আমদানি-রফতানি কাজে বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশসহ নানা হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এর সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এশিয়ার বৃহত্তম বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থল বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রাপোল স্থল বন্দরের বর্তমান ম্যানেজার কমলেশ সাইনী বলেন, সীমান্তের শ্রমিক সংগঠনের কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বৈঠকের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে চাইছি। আমদানি-রফতানি কাজে যাতে সমস্যা না হয়, সে দিকে নজর দেওয়া হবে। ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আইসিপি-পেট্রাপোলে একাধিক চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছে। সেই সব নজরে আসতেই বিএসএফ তাদের নজরদারি এবং সতর্কতা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে।

বিএসএফ কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালককে কোনোভাবেই বাংলাদেশে যেতে দেওয়া হবে না। কারণ এই ধরনের চালকরা জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভিত্তিতে শুল্ক বিভাগ থেকে গাড়ির পাস নেয়, যার ভিত্তিতে বিএসএফ ট্রাকগুলোকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য, বিএসএফ বনগাঁ ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনকে একটি স্থায়ী অপারেটিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের অনেক আমদানিকারকের পণ্যচালান পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে। রফতানির জন্য আসা শত শত ট্রাকও সীমান্তে পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এসব পণ্যচালানের মধ্যে গার্মেন্টস শিল্পের অনেক কাঁচামাল রয়েছে। অনেকের শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন তিনি।

বেনাপোল বন্দরের উপ পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন তরফদার বলেন, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ধর্মঘটের কারণে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে তারা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমদানি- রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও বন্দরে লোড আনলোড প্রক্রিয়া ও উভয় দেশের পাসপোর্টযাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক গতিতে চলছে। তারা মালামাল দিলে আমরা যেকোনও সময় নিতে প্রস্তুত আছি।