মহারাজের ঘূর্ণিতেই শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

মহারাজের ঘূর্ণিতেই শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস

Jakir Hossain
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২২
মহারাজের ঘূর্ণিতেই শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস

 

স্পোর্টস ডেস্ক:

এক মহারাজের ঘূর্ণিতেই শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।এক মহারাজের ঘূর্ণিতেই শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ২০১৩ সালের পর এই ডারবানে টেস্ট জয়ের রেকর্ড নেই দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই রেকর্ড তো ভেঙেছেই। পাশাপাশি বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে লজ্জাজনক এক হার। প্রোটিয়ারা সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতেছে ২২০ রানের বিশাল ব্যবধানে।

ওয়ানডে সিরিজে ইতিহাস গড়ার পর এই টেস্টেও ইতিহাস গড়তে সফরকারী বোলাররা সবটুকু নিংড়ে দিয়েছিল। আগের দিন বোলিং আর ফিল্ডিং অপ্রতিরোধ্য ছিল বাংলাদেশের। তাতে ২৭৩ রানে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৪ রানেই বেঁধে ফেলা গেছে।

কিন্তু ব্যাটাররা সেই অবদান রাখতে পারলেন কই? ২৭৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পঞ্চম দিনের শুরুতেই পরিণত হয়েছে ধ্বংস্তূপে। শেষ দিন চতুর্থ ইনিংসের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের প্রতিরোধ টিকেছে মাত্র ১৩ ওভার। যার পুরো কৃতিত্ব প্রোটিয়া দুই স্পিনার কেশব মহারাজ ও সিমন হারমারের।

আগের দিন ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলায় অনেক কিছু নির্ভর করছিল মিডল অর্ডারের ওপর। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদও এমন প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন। কিন্তু দিনের খেলা শুরু হতেই কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে মিডল অর্ডার।

দিনের পঞ্চম বলে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে। কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন শূন্য রানে। মুশফিক রিভিউ নিয়েছিলেন কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এক ওভার বিরতি দিয়ে আবারও মহারাজের আঘাত। এবার লিটন দাস আগ্রাসী হয়ে মারতে গিয়ে তালুবন্দি হন মিডঅনে। ২ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ব্যাটারের ক্যাচ নেন হারমার।

নতুন নামা ইয়াসির আলীও আগ্রাসী ছিলেন। ১১তম ওভারে মহারাজের বলে চারও মেরেছেন। কিন্তু পঞ্চম বলে আর নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। দারুণ এক ডেলিভারিতে ৫ রানে বোল্ড হয়েছেন ইয়াসির। তাতে শুরুর স্পেলেই ৫ উইকেট ঝুলিতে ভরেছেন প্রোটিয়া বামহাতি স্পিনার।প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার মিরাজও হারমারের ঘূর্ণিতে স্লিপে ধরা পড়লে নিশ্চিত হয়ে যায় যে, লজ্জাজনক এক হারের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

নাজমুল হোসেন শান্ত এক প্রান্ত আগলে থাকলেও টিকে থাকার ঝলকটা দেখা যায়নি। তার পরেও সর্বোচ্চ ২৬ রানের ইনিংস খেলে ইনিংসে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা থেকে বাঁচান বাংলাদেশকে। তবে শান্তকে বেশিদূর যেতে দেননি হারমার। স্টাম্পড করিয়ে সাজঘরে পাঠিয়েছেন। ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোরটি ছিল ৪৩। ২০১৮ সালে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই রানে গুটিয়ে গিয়েছিল।

তবে নিজেদের ইতিহাসে না হলেও ডারবানের কিংসমিডে ঠিকই সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সালে আগের সর্বনিম্নটি ছিল ৬৬। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সেটি করেছিল ভারত। স্পিন বিষে বাংলাদেশকে নীল করে ছাড়া মহারাজ খালেদ, তাসকিনকে ফেরালে ৫৩ রানেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।

অবশ্য কিংসমিডে ২৭৪ রান বা তার বেশি তাড়া করে জেতার নজিরও খুব একটা ছিল না। মাত্র ৩টি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কা ৩০৩ রান তাড়া করে জিতেছিল। সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল কুশল পেরেরার। আর বাংলাদেশেরও সফল রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি খুবই পুরনো। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ রানের লক্ষ্য টপকেছিল ৪ উইকেট হাতে রেখে। কিংসমিডে যে লক্ষ্যটা দক্ষিণ আফ্রিকা দিয়েছে। সেটি এই মাঠে চতুর্থ সর্বোচ্চ।

দক্ষিণ আফ্রিকাও এই প্রথম হোম কন্ডিশনে দুই প্রান্ত থেকে স্পিনার নিয়ে আক্রমণ সাজিয়েছে।মহারাজ ১০ ওভারে ৩২ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ম্যাচসেরাও তিনি। ৯ ওভারে সিমন হারমার ৩ মেডেনে ২১ রানে নিয়েছেন ৩টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে: ১২১ ওভারে ৩৬৭ (এলগার ৬৭, বাভুমা ৯৩, এরউই ৪১, হারমার ৩৮*; খালেদ ৪/৯২, মিরাজ ৩/৯৪, এবাদত ২/৮৬)। দ্বিতীয় ইনিংসে: ৭৪ ওভারে ২০৪ (এলগার ৬৪, পেটারসেন ৩৬, রিকেলটন ৩৯*; এবাদত ৩/৪০, মিরাজ ৩/৮৫, তাসকিন ২/২৪)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে: ১১৫.৫ ওভারে ২৯৮ (জয় ১৩৭, লিটন ৪১, শান্ত ৩৮; (হারমার ৪/১০৩, উইলিয়ামস ৩/৫৪)। দ্বিতীয় ইনিংসে: ১৯ ওভারে ৫৩ (শান্ত ২৬, তাসকিন ১৪; মহারাজ ৭/৩২, হারমার ৩/২১)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ২২০ রানে জয়ী।