মোংলায় মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার রিগনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

মোংলায় মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার রিগনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২১
মোংলায় মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার রিগনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

মোংলা সংবাদদাতা: মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, কবি-সাহিত্যিক-অনুবাদক, শিক্ষানুরাগী এবং ইতালির খ্রিস্টীয় ধর্মযাজক ফাদার মারিনো রিগন জীবনের বেশিরভাগ সময় কাঠিয়েছেন বাগেরহাট জেলার মোংলার শেলাবুনিয়ার ধর্ম পল্লীতে। ২০ অক্টোবর বুধবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মোংলায় পালিত হয়েছে ফাদার মারিনো রিগনের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী। কর্মসুচির মধ্যে ছিলো ফাদার রিগনের সমাধিতে র‍্যালিসহকারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, আলোচনা সভা, শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান।

তার ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (২০ অক্টেবর) মোংলায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে সারাদিন মোংলা সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়, ফাদার মারিনো রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যৌথ আয়োজনে নানা কর্মসূচি পালন করে।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে ফাদার রিগনের সমাধিতে মোংলা উপজেলা পরিষদ, সেন্ট পল্স চার্চ, মোংলা সরকারি কলেজ, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠনের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সেন্ট পলস হল রুমে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া ফাদার মারিনো রিগনের জীবন ভিত্তিক রচনা,চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয় ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এসব কর্মসুচি পালন করা হয়।

বুধবার সকাল ১০ টায় মোংলার সেন্ট পলস হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান, উপজেলা নির্বাহি অফিসার কমলেশ মজুমদার, সম্মিলিত জোটের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক মো. নূর আলম শেখ, সেন্ট পলস ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত দানিয়েল মন্ডল, উপাধ্যক্ষ বিভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রাদার এন্ড্রু জয়ন্ত কস্তা, পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পীযূষ কান্তি মজুমদার, মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যাপক কুবের চন্দ্র বিশ্বাস, দিগরাজ কলেজের অধ্যাপক সুরেশ রায়, সরকারি বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা পারভীন, মোংলা সরকারি কলেজের প্রভাষক কামাল হোসেন, সাইদুর রহমান মিন্টু প্রমূখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অসাধারন অবদান রাখার পাশাপাশি ফাদার রিগন বাংলার সাংস্কৃতিক সম্পদকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরেছেন। তিনি ধর্ম জীবন এবং শিল্প জীবনকে পৃথক ভাবে দেখেননি। তাঁর মস্তকে ছিলো রবীন্দ্রনাথ আর অন্তরে ছিলো লালন। বাংলাদেশে শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং মনুষ্যত্ব বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন ফাদার মারিনো রিগন। আলোচনা সভার আগে র‍্যালি সহকারে ফাদার মারিনো রিগনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান, উপজেলা নির্বাহি অফিসার কমলেশ মজুমদার, মোংলা সরকারি কলেজ, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়, দিগরাজ ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, শিক্ষানুরাগী, অনুবাদক, কবি ও সাহিত্যিক ফাদার মারিনো রিগন ১৯২৫ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভিল্লাভের্লা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

মোংলার শেলাবুনিয়া থাকার সময় অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় জন্মস্থান ইতালিতে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ফাদার মারিনো রিগনের মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর ফাদার রিগনের মরদেহ ইতালি থেকে এনে মোংলার শেলাবুনিয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

ফাদার রিগন ইতালি নাগরিক হলেও বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করেন। এছাড়া ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়। লালনের সাড়ে তিনশো গান, গীতাঞ্জলিসহ রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি বই এবং কবি জসিম উদ্দিনের নকশী কাঁথার মাঠ, নির্বাচিত কবিতা, সোজন বাদিয়ার ঘাট ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে বাংলা সাহিত্যে উচ্চ আসনে আসীন হয়ে আছেন ফাদার মারিনো রিগন ৷