রামপালে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

রামপালে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১, ২০২১
রামপালে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

বিশেষ প্রতিনিধি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, র‌্যাব জনগনের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ও দক্ষ নেতৃত্বে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখার জন্য এখানে র‌্যাবের একটি স্থায়ী ক্যাম্প তৈরী করার পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি আমরা কোষ্টগার্ডকে শক্তিশালী করছি। আমরা এখানে কাউকে ডাকাতি করতে দেবোনা। শুধু এখানেই নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দক্ষতা, প্রজ্ঞা দিকনির্দেশনা ও দূরদর্শিতায় চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে জলদস্যুরা আত্নসমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। সোমবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলা চত্তরে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) এর আয়োজনে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে বলে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সেই জায়গাটিতে আমরা যেতে পেরেছি। একটা পর্যায়ে আমরা বলতে পারি আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় আত্মসমর্পনকৃত জলদস্যুদের ব্যাপারে খোজখবর রাখেন । আত্মসমর্পনের পর তাদের কথা ভেবেই তিনি নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। জলদস্যু যারা আত্মসমর্পন করেছেন তাদের র‌্যাব বাড়িঘর করে দিয়েছেন। পন্য সহকারে দোকান দিয়েছেন। ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়েছেন। ধর্ষন এবং খুন ছাড়া বাকী মামলাগুলোর ব্যাপারে আমাদের আগে যে সিদ্ধান্ত ছিল তাতে আমরা অটল আছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ইউনাইটেড নেশন কিভাবে সম্মানিত করেছেন সেটাও আপনারা দেখেছেন। তিনি শুধু আমাদের নেতা নয়, আজকে তিনি সারা বিশ্বের নন্দিত নেতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সপ্ন ছিল একটি আসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তৈরীর। আমরা দেখছি এই জায়গায় হিন্দুদের দূর্গাপুজোর সময় নানান ধরনের গুজব তৈরী করে, কেউবা নানান ধরনের প্রক্রিয়া তৈরী করে এখানে একটা বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় সেই আশাও তাদের পুরণ হয়নি। যারা চিন্তা করেন এই ধরনের একটা প্রক্রিয়া তৈরী করে, বিশৃঙ্খলা তৈরী করে সফল হবেন সেই আমায় গুড়েবালি। দেশকে নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে দেবোনা, আমরা এই শান্তির দেশকে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেবোনা।

আত্নসমর্পনকৃত জলদস্যুদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যারা আত্মসমর্পন করেছেন তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। আপনাদের জীবনযাত্রার জন্য যা যা প্রয়োজন আমাদের র‌্যাব তার ব্যাবস্থা করে দিয়েছে। যারা আলাদা চিন্তা ভাবনা করবেন তাদের আবারও আইনের মুখোমুখি হতে হবে। সরকার আপনাদের পাশে আছে। র‌্যাব আপনাদের পাশে আছে। এই এলাকায় একটা শান্তির এলাকা তৈরী হবে। এই এলাকার সবাই মিলেমিশে থাকবে। এখানে একটা অসাম্প্রদয়িক চেতনার দেশ হবে। এখানে সবাই বিপদে একে অপরের পাশে দাড়াবে। একসাথে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরো শক্তিশালী করতে চাই।

এর আগে তিনি আত্মসমর্পনকৃত জলদস্যুদের মাঝে ১০২ টি ঘর, ৯০ টি মুদি দোকান (মালামালসহ), ১২ টি জাল ও নৌকা, ৮ টি ইঞ্জিন চলিত নৌকা, ২২৮ টি গবাদিপশু বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. হাবিবুর রহমান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পীর ফজলুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ ৷

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন, রেঞ্জ ডিআইজি , র‌্যাব-৬ অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ মোস্তাক আহমেদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুর রহমান, বাগেরহাট পুলিশ সুপার মোঃ আরিফুল হক, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কবীর হোসেন সহ র‌্যাব ও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকতাবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদ।