ডুমুরিয়ায়  বসন্তবরণ ও পিঠা উৎসব।

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা। এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো।
দিব    হৃদয়দোলায় দোলা,এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো॥
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বসন্তবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ,‌উপস্হিত‌ ছিলেন,
ওসি অপারশন মোঃ আকরাম হোসেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন ভারভীন রুমা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন,
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা;মাহমুদা সুলতানা,
উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম ফিরোজ আহমেদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রীনা মজুমদার, দারিদ্র্য বিমোচন অফিসার প্রতাপ চন্দ্র দাস, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান, নির্বাচন অফিসার শেখ জাহিদুর রহমান,
পি আই ও আশরাফ হোসেন, সমাজ সেবা অফিসার সুব্রত বিশ্বাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হাই‌ সিদ্দিকী,বি আর ডি‌ অফিসার মিসেস নিসা, প্রমুখ।।আজি দখিন-দুয়ার খোলা,এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো।
দিব    হৃদয়দোলায় দোলা,এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো॥
প্রকৃতি যখন তার দখিন-দুয়ার খুলে দেয়, বইতে শুরু করে ফাগুন হাওয়া, মধুর অমৃত বাণী শোনা যায় কোকিলের কণ্ঠে, রঙের উচ্ছ্বাস জাগে অশোক-পলাশ-শিমুলে, বেরিয়ে আসে শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম, আর এসব ফুলে ফুলে ভ্রমর করে খেলা; তখনই যেন প্রবল বিক্রমে আগমন ঘটে রাজাধিরাজের, ঋতুরাজ বসন্তের। পহেলা ফাল্গুন দিনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্ত্যলোকে অভিষেক ঘটে ঋতুরাজের, আর তাকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতি নেয় এক বর্ণিল সাজ। গাছে গাছে জাগে নতুন পাতা, নতুন ফুলের সমারোহ। সবাই যেন মত্ত শীতের শুষ্কতাকে প্রাণপণে আড়াল করার চেষ্টায়। অবশ্য ফুল যদি না-ও ফোটে, বসন্তের আগমনধ্বনিকে কোনোভাবেই চাপা দেয়া যায় না। কারণ কবি যে বলেই দিয়েছেন, ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত।’
বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি অতি জাঁকজমকের সাথে পালিত হয় বসন্ত বরণ উৎসব। পহেলা বৈশাখের পর এটি যেন বাঙালির দ্বিতীয় প্রাণের উৎসব। এ দিনটিতে প্রকৃতির সাথে সাথে বাসন্তি সাজে সেজে ওঠে এই বাংলার মানুষেরা। আর শুধু এই বাংলাই নয়য়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড ও উড়িষ্যাসহ অন্যান্য রাজ্যেও দিনটি বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কবে কীভাবে এসেছে, এত ঘটা করে বসন্ত উৎসব পালনের রেওয়াজ? সেই বৃত্তান্তই এখন হাজির করব আপনাদের সামনে।
বসন্ত উৎসবের একদম প্রাচীনতম রুপ প্রোথিত আছে দোলযাত্রার মাঝে। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় দোলযাত্রা। আর এর প্রাণকেন্দ্রে থাকেন রাধা-কৃষ্ণ। তাদেরকে দোলায় বসিয়ে পূজা করা হয়। উত্তর ভারতে যেটিকে বলা হয় হোলি, বাংলায় সেটিই পরিচিত দোল হিসেবে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চলের প্রাচীন আর্য জাতির হাত ধরে এই উৎসবের জন্ম। খ্রিস্টের জন্মেরও বেশ কয়েকশো বছর আগে থেকে উদযাপিত হয়ে আসছে এই উৎসবটি। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে পাথরের উপর খোদাই করা এক পাথরে পাওয়া গেছে এই উৎসবের নমুনা। এছাড়া হিন্দুদের পবিত্র গ্রন্থ বেদ ও পুরাণেও রয়েছে এই উৎসবের উল্লেখ।

এছাড়াও এই উৎসবের ফিরিস্তি রয়েছে আরো বহু জায়গায়। তৃতীয়-চতুর্থ শতকে বাৎস্যায়ন রচনা করেছিলেন তার জগদ্বিখ্যাত ‘কামসূত্র’। সেখানে দেখা যায় দোলায় বসে নর-নারীর আমোদ-প্রমোদের বিবরণ। সপ্তম শতকের দিকে রাজা হর্ষবর্ধনের শাসনামলে সংস্কৃত ভাষায় লেখা হয়েছিল একটি প্রেমের নাটিকা, সেখানেও ছিল হোলির বর্ণনা। সপ্তম শতকে রচিত শ্রীকৃষ্ণের ‘রত্নাবলী’ এবং অষ্টম শতকের ‘মালতী-মাধব’ – এই দুই নাটকেও দেখা মেলে এই উৎসবের। তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে না জীমূতবাহনের ‘কালবিবেক’ ও ষোড়শ শতকের ‘রঘুনন্দন’ গ্রন্থের কথাও। পরবর্তী সময়ে ভারতবর্ষজুড়ে অনেক মন্দিরের গায়েও হোলি খেলার নমুনা বিভিন্নভাবে ফুটে উঠতে দেখা যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.