রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পুরান ঢাকা শ্যামবাজারে ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রধান আসামি ও তার সহযোগী গ্রেফতার সিলেটে ভয়ঙ্কর নারী খেকো ম্পট রাসেলের অপকর্মের দালিলিক আমলনামা থাই ভিসা ও অবৈধ সিম চক্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিউজ করায় নীলফামারীতে সাংবাদিক সুজন গ্রেফতার :স্বচ্ছ তদন্তের দাবীতে সাংবাদিক মহল আগের দিনগুলো আর নেই সোনার চামচ কবি ও লেখক পরিচিতি পাইকগাছায় মাছের ঘেরে চাঁদা দাবি, মারপিট, লুটতরাজ অতঃপর আদালতে মামলা দায়ের, পিবিআই তদন্তের নির্দেশ পাইকগাছায় দূষণ হ্রাস ও সুন্দরবনের পরিবেশের উন্নতির লক্ষ্যে শিক্ষন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা পটুয়াখালী গলাচিপায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা জরুরি ভোলায় বিশেষ আলোচনা সভা
বিজ্ঞপ্তি :

কীটনাশক দিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরার কারনে সুন্দরবনের মৎস্য প্রজাতি অস্তিত্ব সংকটে

এফ, এম, এ রাজ্জাক, পাইকগাছা(খুলনা)

সুন্দরবনের নদী-খালে কীটনাশক দিয়ে অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় মাছ শিকার করা হয়। এমন দুঃসংবাদ দীর্ঘদিনের। বনের মাছ এখন লোকালয়ের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। কীটনাশকের ঝাঁজে অন্যান্য প্রজাতির মাছও মরছে। অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কাঁকড়া। শুশুক পশুর, শিবসা, আড়পাঙাসিয়া শাকবাড়িয়া নদীর পানিতে অক্সিজেন পাচ্ছে না। বনবিভাগের ৫২ শতাংশ জায়গা অভয়ারণ্য। বনের জীব ও প্রাণী বৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষজ্ঞ এবং সরকারের পরামর্শে ২০১০ সাল থেকে অভয়ারণ্যের আয়তন বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়। অভয়ারণ্যেও অসাধু মৎস্য শিকারীরা প্রবেশ করেছে। কীটনাশকের প্রতিক্রিয়ায় নোনা পানি যেন বিষিয়ে উঠেছে। সুন্দরবনের প্রায় ৩১ শতাংশ জলাভূমি। বনের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের বৃহৎ অংশ মৎস্য সম্পদ। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নদী ও খালে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়াসহ অসংখ্য জলজ প্রাণী রয়েছে। বন বিভাগের তথ্যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে চার হাজার ৭৪৪ কুইন্টাল সাদা মাছ আহরণ করা হয়। এ থেকে রাজস্ব আসে প্রায় ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। একই সময়ে এক হাজার ১৭২ কুইন্টাল চিংড়ি ধরা পড়েছে, যা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। কাঁকড়া আহরণ করা হয় সাত হাজার ৮৩০ কুইন্টাল, যা থেকে রাজস্ব মেলে প্রায় ৫৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাদা মাছ ছয় হাজার ৪০৫ ও ৭৪৭ কুইন্টাল চিংড়ি পাওয়া যায়। রাজস্ব ছিল যথাক্রমে প্রায় ৪০ লাখ ৯৯ হাজার ৩৯৩ ও তিন লাখ ৭৩ হাজার টাকা। এ সময় ছয় হাজার ৮৫৬ কুইন্টাল কাঁকড়া শিকার থেকে রাজস্ব মেলে ৫১ লাখ ৪২ হাজার টাকার বেশি। এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে পাঁচ হাজার ৮৯১ কুইন্টাল সাদা মাছ আহরণ করা হয়, যা থেকে রাজস্ব আসে ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকার বেশি। এ সময়ে চিংড়ি ৮৮২ ও কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয় সাত হাজার ১১ কুইন্টাল। রাজস্ব আদায় হয় যথাক্রমে প্রায় চার লাখ ৪১ হাজার ও ৫২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। সুন্দরবনে নানা অপদ্রব্য বিশেষ করে প্লাস্টিক ও পলিথিন বিষিয়ে তুলেছে, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, মাটি ও তেতো হয়ে উঠেছে। শুধু গবেষণা নয়, স্টক হোল্ডারদের সচেতন হতে হবে। কাঁকড়া প্রজাতি থেকে বছরে লক্ষ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত হয়েছে এর সাথে। বৈদেশিক মুদ্রা আয় স্বাভাবিক রাখতে কাঁকড়া প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আইনের সঠিক প্রয়োগ বাস্তবায়ন করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেইসুবক পেইজ