সংসদে করোনা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে বাজেট পেশ – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

সংসদে করোনা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে বাজেট পেশ

Jakir Hossain
প্রকাশিত জুন ৯, ২০২২
সংসদে করোনা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে বাজেট পেশ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনাভাইরাস মহামারি কাটিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক পরিবেশে এবার সংসদে বাজেট উপস্থাপন হলো। অবশ্য করোনাকালের বিগত দুটি বাজেট অধিবেশনের মতো এবারও দর্শক গ্যালারিতে কোন অতিথিকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। সর্বত্র ছিল স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা। সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ সাপেক্ষে সংসদে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন। এটি বাংলাদেশের ৫১তম এবং মুস্তফা কামালের চতুর্থ বাজেট। বাজেটের পুরোটাই তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছেন। অর্থমন্ত্রীকে বাজেট বক্তৃতা দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।

মহামারির পর যুদ্ধের বাস্তবতায় দাঁড়িয়েও উন্নয়নের হারানো গতি ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারে বাজেটের শিরোনাম, ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’।

নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজেটের চেয়ে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। টাকার ওই অংক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশের সমান। বৃহস্পতিবার বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

এর আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ সভায় বাজেট অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দুপুরেই রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন থেকে আসেন সংসদ ভবনে। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংসদ কক্ষে একসঙ্গে হেঁটে ঢোকেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রীর হাতে ছিল মেরুন রঙের ব্রিফকেস।

নানামুখী চাপের মধ্যেও দেশকে মহামারিপূর্ব উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে নিতে এবারের বাজেট পরিকল্পনা সাজিয়েছেন অর্থমন্ত্রী সাধারণত বাজেট পেশের দিনটিতে সংসদ ভবন জুড়ে থাকে উৎসবের আমেজ। কিন্তু গত দুই বছরের চিত্র ছিল ভিন্ন। সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশে ছিল কড়াকড়ি। আর মূল ভবনে স্বল্প সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেছেন।

অধিবেশনেও চিরচেনা সেই উৎসবের আমেজ দেখা যায়নি দুই বছর। সর্বত্র ছিল কঠোর সতর্কতা। সংক্রমণ এড়াতে জনসমাগম ছিল নিয়ন্ত্রিত। এমনিতে বাজেট উপস্থাপনের সময় সংসদ অধিবেশন কক্ষ পূর্ণ থাকে। তবে গত বছর সংসদে ছিলেন ১৭০ জনের মতো আইনপ্রণেতা। তার আগের বছর উপস্থিতি ছিল আরও কম, ৭৮ জন।

তবে এবার অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের সংখ্যা গত দুইবারের তুলনায় অনেকটা বেশি ছিল। গত দুই বছর তালিকা করে আইনসভার সদস্যদের সংসদের বৈঠকে বসানো হয়েছিল। এবার করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ সনদ পাওয়া সব সংসদ সদস্যই অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। সব মিলিয়ে সংসদ কক্ষে ছিলেন ২৬০ জন আইনপ্রণেতা। সংসদ সদস্যদের মুখ ছিল মাস্কে ঢাকা। সংসদ ভবনে প্রবেশ থেকে শুরু করে লবিসহ সব প্রবেশ মুখে রাখা ছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। যারাই সংসদে ঢুকেছেন প্রত্যেকের তাপমাত্রা মেপে এবং করোনার সনদ প্রদর্শন করে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার জন্য নির্ধারিত গ্যালারিতে বসে বাজেট উপস্থাপনা দেখেন। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির কথা সংসদকে জানান।

এবারের অধিবেশনে কোভিড-১৯ নিয়ে সতর্কতা একেবারে ওঠে যায়নি। গত ৫ জুন শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘কোভিড নেগেটিভ’ সনদ বাধ্যতামূলক। গত দুই বছর বাজেট অধিবেশনের সময় অধিবেশন কক্ষে সংবাদকর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গত বছর সংসদ ভবনে ঢোকার অনুমতি মিলেছিল। এবার সেই বিধিনিষেধ ছিল না।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০ সালে বাজেট বক্তৃতা দিতে সময় নিয়েছিলেন ৪৭ মিনিট। গত বছর এক ঘণ্টার বেশি সময় বাজেট উপস্থাপন করা হলেও নিজে পাঠ করেছেন সব মিলিয়ে ১৫ মিনিটের মতো। বাকি সময় পাওয়ার পয়েন্ট এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় তার বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এবারও তিনি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বাগত বক্তব্য রেখে অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় বাজেট পেশ করেন। শুরুতে পাঁচ মিনিটের মতো বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী। শেষে দুই মিনিটের মতো দাঁড়িয়ে কথা বলেন। সবমিলিয়ে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের বাজেট উপস্থাপনায় মাত্র সাত মিনিট তিনি বক্তব্য দেন।

দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরে স্পিকার বলেন, তিনি চাইলে বসে পড়তে পারেন। বসে বাজেট উপস্থাপনের প্রাক্কালে কুরআনের আয়াত পাঠ করেন মুস্তফা কামাল। পরে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতাটি অডিও ভিজুয়াল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করবেন উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাজেটে বিস্তারিত তথ্যাদি টেবিলে উপস্থাপিত রয়েছে। পঠিত বলে গণ্য করার জন্য অনুরোধ করছি।

বাজেট উপস্থাপনার শেষে অর্থমন্ত্রী অর্থবিল-২০২২ সংসদে উত্থাপন করেন। এরপর স্পিকার ১২ জুন বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতুবি করেন। গত দুই বছরের মতো এবারও বাজেট উপস্থাপনে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আগে বাজেট পেশের সময় কূটনীতিক, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতেন। গত দুই বছরের মতো এবারও কাউকে ডাকা হয়নি।

সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজেট পেশের পর ১২ জুন ২০২১-২২ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা হবে। ১৩ জুন পাস হবে সম্পূরক বাজেট। এরপর নতুন অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। ২৯ জুন নতুন অর্থবছরের অর্থবিল পাস হবে। ৩০ জুন পাস করা হবে বাজেট, তা কার্যকর হবে জুলাইয়ের প্রথম দিন।

গত দুই বছর বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও এবার শুক্র ও শনিবার বাদে সব দিন সংসদের বৈঠক বসবে। গত বছর সব মিলিয়ে ১২ কার্য দিবস চলে সংসদ অধিবেশন। তার আগের বছর ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন ছিল ৯ কার্যদিবসের।