সিদ্ধিরগঞ্জে রিক্সাওয়ালা হানিফের সম্পদের পাহাড় – Latest breaking news in bangla ৷ channel26

সিদ্ধিরগঞ্জে রিক্সাওয়ালা হানিফের সম্পদের পাহাড়

Jakir Hossain
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২২
সিদ্ধিরগঞ্জে রিক্সাওয়ালা হানিফের সম্পদের পাহাড়

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :

অবশেষে বেরিয়ে এসেছে ২০ টাকা জমায় রিক্সা চালানো হানিফের সম্পদের পাহাড়ের তথ্য। সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার ৬টি বহুতল বাড়িসহ নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। একজন সাধারণ রিক্সাওয়ালা থেকে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ায় রূপকথার গল্পকেও হার মানিয়েছে এই গুণধর হানিফ। আর এই সম্পদ রক্ষায় এলাকার প্রভাবশালীদের সাথে রয়েছে তার গভীর সখ্যতা। যখন যারাই ক্ষমতায় থাকে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সুচতুর এই রিক্সাওয়ালা হানিফ। তার এই বিপুল পরিমান অর্থ-সম্পদ নিয়ে কেউ খোঁজ-খবর নিতে গেলেই বিভিন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিবপুর বাগান বাড়ী এলাকায় ৩ কাঠা জমিতে ৫তলা বাড়ি, ওই বাড়ীর পাশে আড়াই কাঠা জমিতে ৬তলা বাড়ি, একই ওয়ার্ডের আটি হাউজিং এলাকায় আড়াই কাঠা জমিতে তিন তলা বাড়ি, একই এলাকায় ২ কাঠা জমিতে ৪তলা বাড়ি, একই ওয়ার্ডের উত্তর আজিবপুর কোনাপাড়া এলাকায় ৪ কাঠা জমিতে একতলা বাড়ি, নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিআইখোলা বৌবাজার এলাকায় ৩ কাঠা জমিতে ৪তলা বাড়ি এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিপুর বাগান বাড়ি এলাকায় তার বসতবাড়ীর পাশে গত দুই মাস আগে ৪ কাঠা জমি ক্রয় করেছে এই রিক্সাওয়ালা হানিফ। বর্তমানে সে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর গ্রামের সুলতান খলিফার ছেলে হানিফ আভাবের জ্বালায় ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর রেল লাইন এলাকায় তার খালার বাসায় আশ্রয় নেয়। ১৯৯৬-১৯৯৯ সালে নাসিক ১নং ওয়ার্ডের সড়কপাড়া এলাকার মো: নূর মহাজনের গ্যারেজে বিশ টাকা জমায় রিক্সা চালিয়ে কোন মতে সংসার চালাতো এই রিক্সাওয়ালা হানিফ। সেখান থেকে পরিচয় হয় মোস্তাফা নামে আরেক রিক্সাওয়ালার সাথে। তার বাসায় যাওয়া আসার কারণে এই রিক্সাওয়ালা মোস্তাফার মেয়ে মোকসেদার সাথে তার বিবাহ হয়। সড়কপাড়া এলাকার মো: নূর মহাজনের বিশ টাকা জমার রিক্সা রেখ রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া গিয়ে রিক্সা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করে সে। পরে সেখান থেকে এসে ২০০০-২০০৫ সাল থেকে আবারো সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারের মো: শাহাজাহান মহাজনের গ্যারেজের ত্রিশ টাকা জমায় রিক্সা চালানো শুরু করে। রিক্সা জমার টাকার জন্য প্রায় সময় রিক্সার মহাজন বাশেঁর সাথে বেধে রাখতো এই রিক্সাওয়ালা হানিফকে। এই কারণে রিক্সা চালানো ছেড়ে দিয়ে নতুন করে প্রতারণার ব্যবসা শুরু করে এই রিক্সা ওয়ালা হানিফ। ২০০৫-২০০৮ সাল থেকে শুরু করে পিতল গলিয়ে স্বর্নের চেইন, চুড়ি, কানের দুল, গলার হাড় বানিয়ে রিক্সা ওয়ালা হানিফ তার স্ত্রী, শাশুরি, খালা শাশুরি, তার শশুর মোস্তাফাকে দিয়ে বিভিন্ন জেলায় নিরীহ মানুষকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে বা লবনের পোটলা ধরিয়ে দিয়ে অজ্ঞান করে টাকা পয়সা লুট করে নিয়া আসে। এই প্রতারণার কারণে রিক্সা ওয়ালা হানিফের স্ত্রী, শাশুরি, খালা শাশুরি, তার শশুর মোস্তাফা কে রংপুর জেলায় স্থানীয় লোকজন আটক করে উত্তম মাধ্যম দিয়ে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে প্রসাশনের কাছে তুলে দেয়। প্রতারণার ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে শুরু করে আবার জাল স্ট্যাম্প ব্যবসা। শুরুতে ব্যবসা ভালো হলেও শেষ টা ভালো হয়নি রিক্সা ওয়ালা হানিফের। যেতে হয়েছে কারাগারে। ২০০৫ সালে পুলিশ বাদী হয়ে হানিফের বিরুদ্ধে জাল স্ট্যাম্প ব্যবসা করার আপরাধে রাজধানী ঢাকার শ্যামপুর থানায় মামলা দায়েল করেন। যাহার মামালা নং- ৫৩, তাং-২৫/০৪/২০০৫, ধারা: (২৫)ক। তখন রিক্সাওয়ালা হানিফ মিজমিজি শিরিন সুলতানার বাড়ীতে বসবাস করত। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরপ্রশাসক আব্দুল মতিন প্রধান জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর আজিবপুর বাগানবাড়ী এলাকাটি মাদকের স্পট হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। স্থানীয় জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে রোকসানা, মাজেদা, হানিফের শ্বাশুড়ি জোসনাসহ আরো কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে এলাকা থেকে বিতারিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা কিভাবে আবার এলাকায় এসেছে আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে রিক্সাওয়ালা হানিফ জানায়, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি কষ্ট করে সম্পদ অর্জন করেছি। আমার ৬টি বাড়ি না, আমার ৩টি বাড়ি রয়েছে। যা আমি আইএফআইসি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। আমি সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্ছার। চলবে…………